ভিসিটিং ডে
জোড়া গেটের ওপার থেকে শুরু হলো দৌড় | হাত ভর্তি ব্যাগ আর বুক ভর্তি উত্কন্ঠা নিয়ে যারা দৌড়াচ্ছে তারা নিজের নিজের সংগ্রামে এককালে অনেক দৌড় দৌড়েছে | কিন্তু আজকের দৌড়টা বয়েসের চোখরাঙানি মানে না, পারা না পারার বৈধতা মানে না | দিন পনেরো বাদে ছেলেকে পাওয়া, তাও আবার মাত্র ৩টে ঘন্টার জন্য | সময় নষ্ট করার মত সময় যে নেই সেটা বলতে গেলেও কিছুটা সময় যাবে ! অতএব দৌড় ..কেমন আছে ছেলেটা?? খাওয়া-দাওয়া করেছে এ কদিন?? আরও রোগা হয়েছে? সে বার ফেরার সময় গা-টা গরম গরম লাগছিল, হাসপাতাল এ নেই তো?
আমাদের গেটে তখনও তালা, বেল বাজেনি, গেট ধরে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলি - "মা আসিবে মোদের কি আর ভাবনা ভাই!!" আর দেখি ওই যে দূর থেকে আসছে আমাদের বাড়ির লোক | অচেনা দিনযাপনের মাঝে চেনা মুখের হাতছানি | গেট খুলতেই বুকে জড়িয়ে বাঁধভাঙ্গা কান্না - "পারছি না এখানে থাকতে,আমাকে নিয়ে চলো " বলে কারোর হাহাকার, কেউ বা চুপ করে থাকে, কেউ আবার মহা আনন্দে আছে | তাই সোজা ব্যাগের ভেতরে খোঁজ - মুরগি না খাসি !! তিন ঘন্টার মধ্যে স্নান করানো, কাপড় কাচা , স্টক কেনা , মহারাজের সাথে দেখা করা , আবার স্টক কেনা, জামাকাপড় গোছানোর পর কিছু মুহূর্ত বাকি থাকলে একটু গা এলানো, শেষে আদর খেয়ে আবার ঘরের ছেলে "পর"-এর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া |
- "এই সপ্তায় মাত্র দুটো চিঠি কেন লিখেছিস ??"
- "আরেকটা লিখেছিলাম, পাওনি??!"
দিনে দিনে বাবারা নিজেদের ঠেক বানিয়ে নেয় | মায়েরা বলে পাশের মা কে - "দেখো না, কি চেহারা বানিয়েছে |"
ক্লাস ৫ এর প্রথম চিঠিতে লিখেছিলাম - "অভিনভ আমার টর্চটা ভেঙ্গে দিয়েছে, ভেঙ্গে একবার সরি ও বলেনি |" আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল, আশা করেছিলাম বাবা-মা-দিদি রোববার এসে ওকে ডেকে বেশ বকবে | কিন্তু সেই কথা তুলতেই মা মুচকি আর দিদি অট্টহাসি হাসে ! জমানো কাগজ, আনন্দমেলা আর কুরকুরে বগলে ঘরে বারবার যাওয়া-আসা, মনে করা আর কি যেন বলার ছিল | পরীক্ষা আসে পরীক্ষা যায়, রেসাল্ট ভালো হলে ক্ষীর খাও আর ডুবলে খাও তীর ! "দেখ ও ৮০% পেল , আর তোর এত কমলো কি করে??" নোটিশ বোর্ড তা মুখস্ত করার দিব্বি কেউ দেয়নি তবু লাইন পড়ে যায়, অনেকে আবার লিখেও রাখে !! দিন যত এগোয়, ক্লাস যত বারে আতুপুতু দুনিয়াটাও চোরকাঁটায় ভরতে থাকে !
মহারাজের সাথে দেখা করাটা আরেক টক-ঝাল-মিষ্টি ব্যাপার | কারোর পৌষমাস, কারোর লম্বা বাঁশ ! দুই রোববারের মাঝের চোদ্দ দিন থাকতে না পেরে অনেক মা-বাবা ফোন করত ছেলের খবর নিতে | তপনদা পরদিন সকালে বলতেন - " কাল বাবা ফোন করেছিল , জিগ্যেস করলো গরুটা কেমন আছে?? বললাম, ভালই চরে খাচ্ছে !" চরে যে খাইনি তা জোর দিয়ে বলতে পারিনা ! ছুটির আগের শেষ ভিসিটিং ডে-টা বড় মায়াবী লাগত, ভালো লাগত | এইতো আর কটা দিন, তারপর বাড়ি, জামাকাপড় বেশিরভাগটা আজই পাঠিয়ে দেব | সেই ব্যাপারটা উল্টো হয়ে গেল আসতে আসতে | ধুর, যাওয়ার সময় দেখা যাবে ! মন খারাপের গলায় পড়ল দড়ি এবং সেই যে প্রথম ভিসিটিং-এ শোনা কথাটা "আজ যেখানে না থাকার জন্য কাঁদছিস দেখবি একসময় সেখানে থাকার জন্যই কাঁদবি " - সত্যি হওয়ার দিকে এগোতে শুরু করলো | ভেবে দেখলাম কি আদৌ, যে, আমরা তো বেশ মানিয়ে নিলাম, আর মা-বাবা দের জীবনটা তো কমবেশি একই রয়ে গেল | গুণময়্দার অতো ইম্পর্টান্ট নোট-ই লিখছি না তার ওপর আবার চিঠি !!
জোড়া গেটের এপারে এসে অনিয়মের মাচা বাঁধতে কে শেখালো মনে পড়ে না..তবে তার ফল হলো এই, যে এক এক সময় মন বলত - " আজ বিকেলের খেলাটা মার গেল |"
অ্যাসেম্বলি হল এ চাদর পাতা হয়, অডিটোরিয়াম এর সামনে চাদর পাতা হয়, চাদর পড়ে কলেজের করিডোরে, আমবাগানে, এমনকি ভবনের সামনে রাস্তায় | আগে থেকে ছক কষা হয়ে যায় - "শোন, রেসাল্ট-এর খবরটা চেপে যাস, তোরটা জানলেই আমাকেও জিজ্ঞেস করবে |" কালো মেঘের রেসাল্ট, বেয়াদপির চলতি ইতিহাস খারাপ খারাপ গন্ধের সব কিছুই বাবা-মায়ের কাছে চাপা পড়ে !
মাধ্যমিক বা এইচ.এস. এর সময়ের অলিখিত ভিসিটিং-গুলোতে পারিবারিক ইতিহাস পারস্পরিক হতে থাকে !! আমরা যাই পরীক্ষা ( সেটা একাই দি আর সবাই মিলে..পরীক্ষা তো ) দিতে, ওদিকে বসে মায়েদের খোশগল্পের আসর | ১১-এ একবার পাথফাইন্ডার এর পরীক্ষায় উপর দিক থেকে থার্ড হয়ে গেলাম | বাকিগুলি বরাবর নিচের দিক থেকে হয়েছি যেহেতু, সেহেতু এবারের তা দেখানো অবশ্য কর্তব্য !! হাত ধরে চিরকাল এড়িয়ে যাওয়া নোটিশ বোর্ড এর সামনে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়ে দেওয়া , তারপর মাথায় হাত বোলানো - " এভাবেই এগিয়ে চল বাবা, একবার হয়েছে যখন চেষ্টা করলেই আবার হবে |" চেষ্টা ব্যাপারটা আসলে খুব বিদঘুটে একটা জিনিস, যত অল্প করা যায় তত মনে হয় উফ অনেক হয়েছে | কিন্তু সেটা তো আর মুখ ফুটে বলা
যায় না !! তাই হাত বোলানোর আরামটা পেট ভরে খাওয়া হলো |
আমার মাংস-ভাতের উল্টোদিকের আম গাছগুলোয় একটা ডাব, দুটো মিষ্টি | আমার ভরা সংসারের একটু দুরেই একা বাবার রোজকার আসা | আমার দু-ঘন্টা দুরের বাড়ি আর তার বাড়ির লোকের সেই মালদা-বনগা থেকে যুদ্ধ, আমরা এক ছাদের তলায় দিনের পর দিন থাকতে থাকতে কিভাবে যেন আমাদের আপনজনদেরও এক আকাশের তলায় নিয়ে আনতে পেরেছিলাম | তাই সারা মাসের কান্না মুছে, ঘাম মুছে ভিসিটিং ডে-র আনাচে কানাচে হাসিটাই বেশি শোনা যেত , আর আমাদেরই মধ্যে যাদের ভিসিটিং বলতে ছিল ক্যান্টিন স্লিপ এ মোচার চপ আর হাজমোলা তারাও মানিয়ে নেওয়ার জটিল "হিস্ট্রি" টাকেই "additional" বানিয়ে নিতে পেরেছিল | তখন "সারদা" শব্দটির সমাচ্চরিত ভিন্নার্থক বেরোয়নি, তখন আমরা ষোলো পেরোইনি |
জীবনের শুকনো মৌচাক গুলো থেকে মধু নিংড়াতে নিংড়াতে বাবা মায়েরা বুড়িয়ে যাচ্ছে, আরও যাবে | ওদের ছাড়াই বাঁচতে জানতে হবে, অঝোর কান্নার পরেও জল শুকোতে হবে, আমাদেরই রুম-ব্লক-বেঞ্চ মেট, ভাই,দাদারা অনেকে লড়ছে সেই লড়াই | আমরা নিয়ম ভাঙ্গার মাতব্বর হয়েও এড়াতে পারব না এই অমোঘ নিয়ম, তারপরেও স্বপ্ন দেখব, রোদ্দুর উঠবে, সাহস-শক্তি করবো জড়ো |
আজ রোববার, ঘন্টা বাজার সময় হয়ে এলো , দুপুর দুটো বাজতে পাঁচ-এর দৌড়টার "ওয়ার্ম আপ" শেষে অনেকেই এখন বাঁশের ফিনিশিং লাইন-এর প্রান্তে পৌঁছে গেছে ! কেউ কেউ রাস্তার জ্যামের মধ্যে বারবার হাতঘড়িটার দিকে দেখছে দুটো বাজতে আর কতক্ষণ বাকি !! শুধু আজকের দিনটার জন্য এই দুটোর ঘন্টা বাঁশের বেড়ার দুধারের লোকের জন্যই বাজে |
________________________________________________
শৌণক (মাধ্যমিক ২০১০, উচ্চ মাধ্যমিক ২০১২)
প্রথম লেখা : ২০১৪
পরিমার্জন : ১১-৪-২০১৫
জোড়া গেটের ওপার থেকে শুরু হলো দৌড় | হাত ভর্তি ব্যাগ আর বুক ভর্তি উত্কন্ঠা নিয়ে যারা দৌড়াচ্ছে তারা নিজের নিজের সংগ্রামে এককালে অনেক দৌড় দৌড়েছে | কিন্তু আজকের দৌড়টা বয়েসের চোখরাঙানি মানে না, পারা না পারার বৈধতা মানে না | দিন পনেরো বাদে ছেলেকে পাওয়া, তাও আবার মাত্র ৩টে ঘন্টার জন্য | সময় নষ্ট করার মত সময় যে নেই সেটা বলতে গেলেও কিছুটা সময় যাবে ! অতএব দৌড় ..কেমন আছে ছেলেটা?? খাওয়া-দাওয়া করেছে এ কদিন?? আরও রোগা হয়েছে? সে বার ফেরার সময় গা-টা গরম গরম লাগছিল, হাসপাতাল এ নেই তো?
আমাদের গেটে তখনও তালা, বেল বাজেনি, গেট ধরে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলি - "মা আসিবে মোদের কি আর ভাবনা ভাই!!" আর দেখি ওই যে দূর থেকে আসছে আমাদের বাড়ির লোক | অচেনা দিনযাপনের মাঝে চেনা মুখের হাতছানি | গেট খুলতেই বুকে জড়িয়ে বাঁধভাঙ্গা কান্না - "পারছি না এখানে থাকতে,আমাকে নিয়ে চলো " বলে কারোর হাহাকার, কেউ বা চুপ করে থাকে, কেউ আবার মহা আনন্দে আছে | তাই সোজা ব্যাগের ভেতরে খোঁজ - মুরগি না খাসি !! তিন ঘন্টার মধ্যে স্নান করানো, কাপড় কাচা , স্টক কেনা , মহারাজের সাথে দেখা করা , আবার স্টক কেনা, জামাকাপড় গোছানোর পর কিছু মুহূর্ত বাকি থাকলে একটু গা এলানো, শেষে আদর খেয়ে আবার ঘরের ছেলে "পর"-এর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া |
- "এই সপ্তায় মাত্র দুটো চিঠি কেন লিখেছিস ??"
- "আরেকটা লিখেছিলাম, পাওনি??!"
দিনে দিনে বাবারা নিজেদের ঠেক বানিয়ে নেয় | মায়েরা বলে পাশের মা কে - "দেখো না, কি চেহারা বানিয়েছে |"
ক্লাস ৫ এর প্রথম চিঠিতে লিখেছিলাম - "অভিনভ আমার টর্চটা ভেঙ্গে দিয়েছে, ভেঙ্গে একবার সরি ও বলেনি |" আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল, আশা করেছিলাম বাবা-মা-দিদি রোববার এসে ওকে ডেকে বেশ বকবে | কিন্তু সেই কথা তুলতেই মা মুচকি আর দিদি অট্টহাসি হাসে ! জমানো কাগজ, আনন্দমেলা আর কুরকুরে বগলে ঘরে বারবার যাওয়া-আসা, মনে করা আর কি যেন বলার ছিল | পরীক্ষা আসে পরীক্ষা যায়, রেসাল্ট ভালো হলে ক্ষীর খাও আর ডুবলে খাও তীর ! "দেখ ও ৮০% পেল , আর তোর এত কমলো কি করে??" নোটিশ বোর্ড তা মুখস্ত করার দিব্বি কেউ দেয়নি তবু লাইন পড়ে যায়, অনেকে আবার লিখেও রাখে !! দিন যত এগোয়, ক্লাস যত বারে আতুপুতু দুনিয়াটাও চোরকাঁটায় ভরতে থাকে !
মহারাজের সাথে দেখা করাটা আরেক টক-ঝাল-মিষ্টি ব্যাপার | কারোর পৌষমাস, কারোর লম্বা বাঁশ ! দুই রোববারের মাঝের চোদ্দ দিন থাকতে না পেরে অনেক মা-বাবা ফোন করত ছেলের খবর নিতে | তপনদা পরদিন সকালে বলতেন - " কাল বাবা ফোন করেছিল , জিগ্যেস করলো গরুটা কেমন আছে?? বললাম, ভালই চরে খাচ্ছে !" চরে যে খাইনি তা জোর দিয়ে বলতে পারিনা ! ছুটির আগের শেষ ভিসিটিং ডে-টা বড় মায়াবী লাগত, ভালো লাগত | এইতো আর কটা দিন, তারপর বাড়ি, জামাকাপড় বেশিরভাগটা আজই পাঠিয়ে দেব | সেই ব্যাপারটা উল্টো হয়ে গেল আসতে আসতে | ধুর, যাওয়ার সময় দেখা যাবে ! মন খারাপের গলায় পড়ল দড়ি এবং সেই যে প্রথম ভিসিটিং-এ শোনা কথাটা "আজ যেখানে না থাকার জন্য কাঁদছিস দেখবি একসময় সেখানে থাকার জন্যই কাঁদবি " - সত্যি হওয়ার দিকে এগোতে শুরু করলো | ভেবে দেখলাম কি আদৌ, যে, আমরা তো বেশ মানিয়ে নিলাম, আর মা-বাবা দের জীবনটা তো কমবেশি একই রয়ে গেল | গুণময়্দার অতো ইম্পর্টান্ট নোট-ই লিখছি না তার ওপর আবার চিঠি !!
জোড়া গেটের এপারে এসে অনিয়মের মাচা বাঁধতে কে শেখালো মনে পড়ে না..তবে তার ফল হলো এই, যে এক এক সময় মন বলত - " আজ বিকেলের খেলাটা মার গেল |"
অ্যাসেম্বলি হল এ চাদর পাতা হয়, অডিটোরিয়াম এর সামনে চাদর পাতা হয়, চাদর পড়ে কলেজের করিডোরে, আমবাগানে, এমনকি ভবনের সামনে রাস্তায় | আগে থেকে ছক কষা হয়ে যায় - "শোন, রেসাল্ট-এর খবরটা চেপে যাস, তোরটা জানলেই আমাকেও জিজ্ঞেস করবে |" কালো মেঘের রেসাল্ট, বেয়াদপির চলতি ইতিহাস খারাপ খারাপ গন্ধের সব কিছুই বাবা-মায়ের কাছে চাপা পড়ে !
মাধ্যমিক বা এইচ.এস. এর সময়ের অলিখিত ভিসিটিং-গুলোতে পারিবারিক ইতিহাস পারস্পরিক হতে থাকে !! আমরা যাই পরীক্ষা ( সেটা একাই দি আর সবাই মিলে..পরীক্ষা তো ) দিতে, ওদিকে বসে মায়েদের খোশগল্পের আসর | ১১-এ একবার পাথফাইন্ডার এর পরীক্ষায় উপর দিক থেকে থার্ড হয়ে গেলাম | বাকিগুলি বরাবর নিচের দিক থেকে হয়েছি যেহেতু, সেহেতু এবারের তা দেখানো অবশ্য কর্তব্য !! হাত ধরে চিরকাল এড়িয়ে যাওয়া নোটিশ বোর্ড এর সামনে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়ে দেওয়া , তারপর মাথায় হাত বোলানো - " এভাবেই এগিয়ে চল বাবা, একবার হয়েছে যখন চেষ্টা করলেই আবার হবে |" চেষ্টা ব্যাপারটা আসলে খুব বিদঘুটে একটা জিনিস, যত অল্প করা যায় তত মনে হয় উফ অনেক হয়েছে | কিন্তু সেটা তো আর মুখ ফুটে বলা
যায় না !! তাই হাত বোলানোর আরামটা পেট ভরে খাওয়া হলো |
আমার মাংস-ভাতের উল্টোদিকের আম গাছগুলোয় একটা ডাব, দুটো মিষ্টি | আমার ভরা সংসারের একটু দুরেই একা বাবার রোজকার আসা | আমার দু-ঘন্টা দুরের বাড়ি আর তার বাড়ির লোকের সেই মালদা-বনগা থেকে যুদ্ধ, আমরা এক ছাদের তলায় দিনের পর দিন থাকতে থাকতে কিভাবে যেন আমাদের আপনজনদেরও এক আকাশের তলায় নিয়ে আনতে পেরেছিলাম | তাই সারা মাসের কান্না মুছে, ঘাম মুছে ভিসিটিং ডে-র আনাচে কানাচে হাসিটাই বেশি শোনা যেত , আর আমাদেরই মধ্যে যাদের ভিসিটিং বলতে ছিল ক্যান্টিন স্লিপ এ মোচার চপ আর হাজমোলা তারাও মানিয়ে নেওয়ার জটিল "হিস্ট্রি" টাকেই "additional" বানিয়ে নিতে পেরেছিল | তখন "সারদা" শব্দটির সমাচ্চরিত ভিন্নার্থক বেরোয়নি, তখন আমরা ষোলো পেরোইনি |
জীবনের শুকনো মৌচাক গুলো থেকে মধু নিংড়াতে নিংড়াতে বাবা মায়েরা বুড়িয়ে যাচ্ছে, আরও যাবে | ওদের ছাড়াই বাঁচতে জানতে হবে, অঝোর কান্নার পরেও জল শুকোতে হবে, আমাদেরই রুম-ব্লক-বেঞ্চ মেট, ভাই,দাদারা অনেকে লড়ছে সেই লড়াই | আমরা নিয়ম ভাঙ্গার মাতব্বর হয়েও এড়াতে পারব না এই অমোঘ নিয়ম, তারপরেও স্বপ্ন দেখব, রোদ্দুর উঠবে, সাহস-শক্তি করবো জড়ো |
আজ রোববার, ঘন্টা বাজার সময় হয়ে এলো , দুপুর দুটো বাজতে পাঁচ-এর দৌড়টার "ওয়ার্ম আপ" শেষে অনেকেই এখন বাঁশের ফিনিশিং লাইন-এর প্রান্তে পৌঁছে গেছে ! কেউ কেউ রাস্তার জ্যামের মধ্যে বারবার হাতঘড়িটার দিকে দেখছে দুটো বাজতে আর কতক্ষণ বাকি !! শুধু আজকের দিনটার জন্য এই দুটোর ঘন্টা বাঁশের বেড়ার দুধারের লোকের জন্যই বাজে |
________________________________________________
শৌণক (মাধ্যমিক ২০১০, উচ্চ মাধ্যমিক ২০১২)
প্রথম লেখা : ২০১৪
পরিমার্জন : ১১-৪-২০১৫
No comments:
Post a Comment
পেটে আসছে মুখে আসছে না ? লিখুন , লিখুন !!