Friday, August 14, 2015

Should Have Done Better

- কী লালমোহন বাবু কি বুঝলেন ! আপনার হিরো তো ফাটিয়ে দিয়েছে |
-
ধুর মশাই, আর বলবেন না | স্কুলে গিয়ে দেখি লোক গিজগিজ করছে | আমার হিরো কে একেবারে কিডনাপ করে নিয়ে গেল মশাই স্টার আনন্দের গাড়ি |
-
তা আপনার হিরোর এলেম আছে বলতে হয় |
-
এলেম বলে এলেম ! ভিতটা শক্ত করে গড়ে দিয়েছিলুম কিনা ! ওসব দিনে ঘন্টার পর ঘন্টা বই নিয়ে বসে কিসসু হবে না | এবারের গল্পটা একটু আগেই বের করব ভেবেছি | প্রকাশককেও বলে রেখেছি | 
-
তা গল্পটা একটু শুনতে পারি কি !
-
আলবাত, গরম সিঙ্গারা আছে | সঙ্গে একটু চা হলে মন্দ হত না |
সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে ফোনের আওয়াজে | বাবা ফোন করেছিল | এতখানি উচ্ছ্বসিত , এইচ.এস. টা নিজের ছেলে যে বছর দিয়েছিল , সেবারের চেয়েও বেশি | আত্মীয়রাও এতটা খুশি হতো না, শুনলে নাক সিঁটকে বলত "আদিখ্যেতা দেকেচি, এমনটা দেকিনি বাপু |" যারা নরেন্দ্রপুরের জল খেয়েছে তারা অবশ্য এসবে কান না পেতে মুচকি হেসে এগিয়ে যাবে | আমাদের বাবা - মায়েরা খুশি হয়ে বলবে আমরা গর্বিত এত স্কুল থাকতে এই স্কুলে ছেড়ে গেছলাম | আজ সত্যিই সার্থক | মাথায় হাত বুলিয়ে বলবে , স্কুলের মুখ রেখেছ বাবা , এভাবেই এগিয়ে চল | সমস্ত নরেন্দ্রপুর আজ এক সুরে গান গাইবে সে প্যারিসেই থাক আর আমেরিকাতেই থাক না কেন !
পথ শুরু সেই কত বছর আগে | শিক্ষক দিবসের দিনে ধুতি পাঞ্জাবি পরা ছেলেটার পড়ানো দেখে মনে মনে তিনি নিশ্চয়ে ভেবেছিলেন " এ ছেলের হবে, হতেই হবে |" আর আদর করে সবার হাতে চকলেট গুঁজে দিয়েছিলেন | সেদিন যেমন ছেলেদের চকলেটের আবদারটা রেখেছিলেন , আজ তাঁর ছেলেরাও তো সেটা সুদে-আসলে দিতে পেরেছে | তাঁদের দশটা-চারটের ছবি এক থাকেনি ,কোনো কোনদিন হাতে ধরে অঙ্ক শেখাতে গিয়ে সাড়ে চারটের লোকাল টা মিস হয়ে গেছে, কিন্তু শিক্ষকতায় বিন্দুমাত্র ফাঁকফোকর থাকেনি |
রোজকার চোদ্দ ঘন্টার পড়ার গল্প আর ৫টা সাবজেক্টের জন্য দশজন গৃহশিক্ষকের ফিরিস্তি আজ তোলা থাক | ঘন্টার তালে তাল মেলাতে গেলে অত সময় পাওয়ায় মুশকিল | ছায়া প্রকাশনীর "ছায়া" না থাকা সত্ত্বেও আজ মিশন গেটে এসে দাঁড়িয়েছে তারা | তিলে তিলে একটু একটু করে ভুল ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নিজেকে গড়ে তুলেছে | আর নরেন্দ্রপুর মানে হলো পাশের জনকেও সঙ্গে নিয়ে নিজেকেও গড়ে তুলেছে | অবশ্য এইসবের জন্য বার্সেলোনা-ম্যানচেস্টার সিটির ঝগড়াগুলো বাদ পড়েনি | বাদ পড়েনি সানডে সাসপেন্স | বিদায়ির প্রস্তুতির জন্যও মেরে কেটে অন্তত এক সপ্তাহ | কিন্তু পান্তা-আলু খেয়ে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে পড়াশোনাটা অবলীলায় চলতে থেকেছে | রুদিমেন্টসের বইটার যা অবস্থা , কালবেলার অবস্থা যদিও তার চেয়েও কাহিল | পরীক্ষা বলে কি গল্পের বইয়ের নিস্তার আছে নাকি !
সেল্ফ স্টাডিগুলোর জমাটি আড্ডা হয়েছে আরো ভরাট - অবশ্য শুধু পড়াশোনার আলোচনা নয়, আড্ডা বলতে প্রকৃতই যা বোঝায় আর কি | পরীক্ষার দিন কাছিয়ে এসেছে | পরীক্ষার দিনগুলোতে ব্যবস্থাটা একটু রাজকীয় | গোপালদা, অজয়্দারা ধমক দিয়ে বলেছে "পরীক্ষা দিতে যাচ্ছ, ভালো করে খেয়ে যাও, নইলে ভালো করে লিখতে পারবে না |" - বলে একটার জায়গায় দুটো ডিম-মাছ থালায় চাপিয়ে দিয়েছে | যেখানেই যাও সবাই ঢেলে ভালোবেসেছে | বাস থেকে নেমে বাবা-মায়ের আগে স্প্রিং রোল - মিষ্টি ডাবের জলে খানিক পরিতৃপ্তি |
আজকের গল্পটা যদিও একটু আলাদা | 
অশোকদা ভোরবেলা স্বপ্ন দেখেছেন তাঁর "should have done better"-এর স্ট্যাম্প খানা তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না | যদিও সকালে টিভি খুলে তিনি আর সেটার প্রয়োজন বোধ করেননি | তবে খানিক মুচকি হেসেছেন | 
আজিত্দা টেবিলের বুকে পা তুলে দিয়ে গর্ব করছেন নরেন্দ্রপুরকে নিয়ে |
এবিপি আনন্দ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী কয়েকদিনের জন্য নরেন্দ্রপুরে একটা ছোট পোর্টেবল ষ্টুডিও খুলবে |
যে স্কুলে রেইনি ডে বলে কিছু হয়না সেখানে এই আনন্দে একদিন স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে |
_________________________________________

No comments:

Post a Comment

পেটে আসছে মুখে আসছে না ? লিখুন , লিখুন !!