Thursday, August 13, 2015

সৌরভ

ঘোর বাদলের আঁধার ঘনায়  সেই খেলা নেই মাঠে 
মনের কোণে দুঃখ সবার,
"সৌরভ", তুমি 
থাকবে মোদের সাথে ।

সেদিনও বৃষ্টি হচ্ছিল। তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টি মানেই আমাদের কাদায় কাদায় বাঁধনখোলা। যথেচ্ছাচার। স্লাইড খেতে ট্যাকল্-এর অজুহাত লাগে না। শরীর খারাপ,মন খারাপ,পেট খারাপ যা-ইচ্ছে থাকুক বন্ধু...বৃষ্টির বিকেলে মাঠে দেখা হচ্ছে। আর শেষ পিরিয়ডে অল্প জানান দিয়েই বৃষ্টি নামিয়ে দিলে যেতে যেতেই সব ফুরিয়ে যাওয়ার সেই ভয়টা ??... সেদিন ভয়টা ছিল। লাস্ট পিরিয়ডে নেমেছিল। ছুট্টে গেছি মাঠে..খেলার নামে ঐ যে অবাধ্যতা।
ফিরে এসে স্নানটা আর পাঁচটা দিনের মত হল না। বৃষ্টির বিকেল,বাজের ঝিলিক,গম্ভীরপনা মেঘদেরকে যে নির্মলতায়,যে উচ্ছ্বলতায় বিশ্বাস করে এসেছি এতদিন; সেই বিশ্বাস গেল ভেঙে। এক বিকেলে অনেকটা বড় হয়েছিলাম আমরা।
একটা ছেলে,সে আমাদের ভাই,তোদের বন্ধু,ওদের দাদা-ঠিক ঐ দিনটাতেই লাস্টে ফুটবলটা জমা দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল,অথবা,স্বেচ্ছায় নিয়েছিল। গোটা মাঠ প্রচন্ড দাপাদাপির পর ঝরা জল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে...ছেলেটা একা গেছিল ওদিকের গোলপোস্টের ধার থেকে বল আনতে। একসাথে থাকাটাই যেখানে যাবতীয় অবলম্বন,সেখানে সেই বিকেলে ভাইটা কটা মুহূর্তের জন্য একা হয়ে গেল। ছোটবেলা থেকে অনেকে অনেকভাবে বুঝিয়েছে "বাজ"-এর আকস্মিকতা- তুড়িতে উড়িয়েছি। আমার তুড়ি,আমাদের তুড়িকে ছুরি মেরে ঐ গোলপোস্টের পিছনদিকেই বাজটা পড়েছিল। ছেলেটার ডেস্কে তখনও চানাচুর,"গোরস্থানে সাবধান"-এর ৩৪ পাতায় কাগজ গোঁজা। বি-কালবৈশাখীর রোমান্সে আনাচে-কানাচে কেটে ছড়ে যাওয়া থাকতে পারত...নিদেনপক্ষে তিনদিনের ধূম জ্বর। কোনো কিচ্ছুকে সময় না দিয়ে ভাঙল বাজ।
কাঁটা-ছাড়া দুনিয়াটায় সেই আমাদের সব্বার বুকে একসাথে দলা পাকিয়ে ওঠা।
তারপরও বিকেলে ঝড় হয়। বৃষ্টি হয়। "আর-পারা-যাচ্ছে-না"-র দিনটা শান্তিতে শেষ হয়।
আজও বাজ পড়ল।
বৃষ্টি হল।
আমার পাশে। আমাদের জানলায়।
বৃষ্টির পর সোঁদা মাটির "সৌরভে" আজ কী একটা নেই,কে একটা নেই.......
____________________________________________________
শৌণক 


No comments:

Post a Comment

পেটে আসছে মুখে আসছে না ? লিখুন , লিখুন !!